আপনাকে "আমরা লেখক" এ স্বাগতম <**> এই সাইটে প্রবেশ করার জন্য ধন্যবাদ <**> আপনার পছন্দের লেখাটি পড়তে নিচের category থেকে বেছে নিন। <**> টাকা উপার্জন করার জন্য বাম পাশের কলাম দেখুন। <<****>>

Advertise your website/facebook page here! <**> only 20tk/week! <**> call 01986761741 !<**> Only for Bangladesh now! The place for add is given below! scroll down the page and find your advertise!! :-D only for 20 tk!!!

Thursday, 16 July 2015

নিলীমা


রাত আড়াইটা।
রাস্তায় একটা সাদা কুকুর কিছুক্ষণ পরপরই ডেকে উঠছে, আর তখন ওর পিছনে থাকা কালো কুকুরটাও এদিক ওদিক সবদিক দৌড়ে তারস্বরে চিৎকার করছে।
একটানা অনেকদিন শরীর খারাপ থাকায় সূর্যের আলো গায়ে মাখার সুযোগ হয়নি, তাই আজ চাঁদের আলোতে স্নান করে দুধের সাধ ঘোলে মেটাচ্ছি।
আমাকে দেখে মনে হয় সাদা কুকুরটার পছন্দ হয় নি। তাই দাঁত মুখ খিঁচিয়ে কয়েকবার ঘেউ ঘেউ করে উঠল।
কুকুরদের ভাষা আমার জানা নেই, তবে আমার মনে হয় কুকুরটা আমার পরিচয় জানতে চেয়ে চিৎকার করছে। এখনো হয়তো বুঝে উঠতে পারছে নাহ আমি চোর না সাধু কোন গোছের। দাঁতমুখ খিঁচানোর হয়তো সেটাই কারন। সারমেয় ভাষাতে হয়তো বুঝিয়ে দিতে চাইছে এ এলাকাতে তাঁর উপর দাদাগিরি চলবে নাহ। পৈতৃক সূত্রে এলাকার নেতা না হলেও সে যে নিজেকে এই এলাকার একচ্ছত্র অধিপতি ভাবে সেটা তাঁর হাবেভাবে স্পষ্ট ফুটে উঠছে। অন্তত যাতে তাঁকে অনুসরণ করা কালো কুকুরটা আর তাঁর পেছনের দেয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা কুকুরগুলোকে তো তাঁর বুঝানো দরকার তাঁর ক্ষমতার ব্যপ্তি কত বিশাল পরিমাণের।
বাঘে ছুলে আঠারো ঘা, পুলিশে ছুলে বত্রিশ ঘা। সুন্দরবনের সব বাঘ এখন চিড়িয়াখানার খাঁচায়, না হলে ধানমন্ডি ২ এর নেতা খ্যাতা টাইপ লোকদের বাসাতে সোফার শোভাবর্ধন করছে। একবার খাঁচার ভেতরে থাকা এক বাঘকে মানুষের মাথা লাগিয়ে দাঁড়ি মোচসহ বিড়ি ফুঁকতে দেখেছিলাম। সময় তখন বর্ষাকাল, দর্শনার্থীর আনা গোনা ছিল নাহ, এরকম নির্জন অবস্থায় হঠাত আমাকে দেখতে পেয়ে হাসি হাসি মুখ করে আমার দিকে এগিয়ে এসেছিল। আমি খাঁচার বাইরে থাকলেও ঝেড়ে দৌড় লাগাই, কে জানে আমার কাছে যদি গাজার স্টিক আবদার করে বসে, তখন? তাই বাঘের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা বাদ, বাবা পুলিশে চাকরি করে অবসর নিয়েছিলেন, তাই পুলিশের সাথেও ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা বাদ। তারপরও কোন নতুন কনস্টেবল হঠাত থানায় ধরে নিয়ে গেলে সেখান থেকে কিভাবে যেন ১০ মিনিটের ভেতর ছাড়া পেয়ে যাই। দুই তিনজনের ব্যাপারে ধারণা করতে পারি আমাকে ছাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখার, কিন্তু কাজটা আসলে কে করে সে ব্যাপারে সঠিক অনুমান কখনো করে উঠতে পারি নি।
বাঘ, পুলিশ বাদ। দাঁড়িয়ে আছি কয়েকটা চ্যালা নিয়ে ঘিরে দাঁড়ানো নেতা টাইপ কুকুরটার সাথে। আমাকে সে তাঁর নিজস্ব ভাষাতে প্রশ্ন করেছে, উত্তর দিতে না পারলে আমাকে কামড়ে দেবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। আচ্ছা, কুকুরে ছুলে কত ঘা?
দাঁতমুখ খিঁচিয়ে আমিও বার কতক সারমেয় ভাষার মত করে ঘেউ ঘেউ করে উঠলাম। উত্তর সঠিক হয়েছে কিনা জানি নাহ, তবে সাদা কুকুরটাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে। কালো কুকুরসহ বাকি কুকুরগুলো সরে যেয়ে রাস্তা করে দিল হাঁটার। এই সুযোগ ঝটপট কেটে পড়ার, কেটে পড়ছিও প্রায়, এমন সময় আবার সেই কলিজা ঠান্ডা করা সারমেয় ধ্বনি।
দৌড় দেবার কথা মনে আসল একবার, কিন্তু সাথে সাথেই সেটা বাতিল করে দিলাম। এদের মনস্তত্ত্ব অনেকটা সাধারণ পাবলিকের মত। যাদের ধমক দিলে কুই কুই করে ওঠে, যেন এখুনি কেঁদে দিবে। কিন্তু যেই একবার বুঝবে আপনি চিপাতে, তখন মারা দিতে দিতে একেবারে ভরে দিবে।
মেজাজ খুব গরম হয়ে গেল, কিছু না বলে সিম্পল 'ইগনোর কর' নীতিতে হেঁটে যেতে থাকলাম। অন্য কুকুরগুলো একটা হেভিওয়েট চিৎকার যুদ্ধ দেখার জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে ওয়েট করলেও আমার রণে ক্ষণ দেয়া দেখে খুবই আশাহত হলো মনে হয়।
রোজার মাস, মুখের চুল দাঁড়ি শেভ না করায় আর প্রতিদিনের দাঁত ব্রাশটা আজ না কাল করে গড়িমসি করাতে চেহারা দেখে যে কারো মনে করার কথা আফ্রিকা থেকে আমার আগমন ঘটেছে। দিনের বেলা রাস্তায় বের হলে হঠাত করে কোন বাংগালীর মুখে সোহাহিলি বা বাওয়ালি ভাষার অভিবাদনও শুনে বসতে পারি। রোজার ঠিক আগে হাত কাঁটাটা খুব ভালোই ভোগাল এ কয়দিন। এখন হাতে ফাঁক হয়ে যাওয়া চামড়া জোড়া লেগে গেলেও খুব বড় একটা কাটা দাগের অস্তিত্ব ঠিকই রয়ে গেছে, মাঝে মাঝে হাতে টানও অনুভব করি।
কুকুরগুলো এখন ঠিক আমার পেছন পেছন দলবদ্ধ হয়ে হাঁটছে, সাদা কুকুরটা, তাঁর পেছনে কালো কুকুরটা, তাঁর পেছনে তাদের বাকি চ্যালা চামুন্ডারা। রাস্তাতে এখনো কিছু লোকের হালকা পাতলা আনাগোনা থাকায় তাঁরা এ দৃশ্য দেখে অবাক ও নির্বাক। আমি কোন প্রকার ভাবভংগির ধার না ধেরে চুপচাপ হেঁটে চলছি, পেছনে সারমেয়কুল। মাঝে এক হুজুর গোছের দাড়িওয়ালা টাইপ লোককে দেখে সাদা কুকুরটা চাঁপা গলাতে ঘড় ঘড় করে উঠল, হুজুর তৎক্ষণাৎ বাড়ির ভেতরে ঢুকে পগারপাড়।
কোন দিকেই কোন খেয়াল না রেখে কোন বিশাল ভাবুকের মত হাঁটছি, সংগে একপাল কুকুর।
এ ক'দিন বাসাতে বসে থাকাকালীন অবসরের সময় কাঁটাতে যখন ফেসবুকে লেখালেখি নিয়মিত করলাম, তখন এক মেয়ের সাথে পরিচয়।
একদিন হঠাত ফোনে আননোন নাম্বার হতে কল আসল, আমি আবার আননোন নাম্বার হতে আসা কলগুলো খুব আগ্রহের সাথে ধরি। একবার এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা তাঁর ছেলেকে ফোন দিতে যেয়ে আমাকে ভূলে ফোন দিয়েই শুরু করে দিয়েছেন, 'কালামানিক, বাবা আমার, সোনা আমার, কেমন আছোস তুই?'
আমিও তখন গলাতে খুব আবেগ ঢেলে জবাব দেই, 'মুই খুব ভালা আছুইন মা। তুই কিবা আছুত?'
আমার গলার স্বরে বা কাঁচা অভিনয়ে এক সময় তিনি যখন বুঝতে পারেন আমি তাঁর কালো মানিক বা ফুটবলার পেলে কোনটাই নাহ, তখন অভিসম্পাত করতে করতে ফোনটা কাটেন, আর আমি বেডে শুয়ে জানালার ওপাশটা ভালোমত দেখার চেষ্টা করি।
কিছুক্ষণ পর পুনরায় মহিলাটির ফোনকল ঠিকই আসে, তবে এবার সেখানে না থাকে আবেগ না থাকে রুক্ষতা। কাঁদ কাঁদ স্বরে বেদনার্ত গলায় আমাকে তিনি জানান, তাঁর পেলে নাকি এখন সত্যিই প্লেয়ার হয়ে গেছে। মার প্রতি তাঁর এখন আর কোন অনুভূতি কাজ করে নাহ, তাঁকে নাকি ইচ্ছামত গাল পেরে আর কখনো ফোন না করার ধমক দিয়ে ফোন কেটে দিয়েছে সে। মহিলা তখন আমার কাছ থেকে পাওয়া আবেগময় কথার সাথে তাঁর ছেলের কথার তুলনা করে আর হাহাকার করেন শুধু। আমি তখন কিছু না বলে চুপ করে ফোনটা কেটে দেই, কিছু কিছু সময় থাকে, যখন শান্তনার চেয়ে কেঁদে বুক ভাসালেই কষ্ট বেশি লাঘব হয়।
যথারীতি তাই সেদিনও ফোনটা রিসিভ করি, ওপাশ থেকে হ্যালো শুনতেই কিছুটা নিরাশ হলাম। মনে হচ্ছে যেন একটা বাচ্চা মেয়ে খিল খিল করে হাসছে আর কথা বলছে।
- অ্যাই তুমি নীল?
- না, আমি ব্লু। কি চাই?
- হিহিহি, তোমার পাঞ্জাবীতে পকেট আছে?
- না, তবে প্যান্টে পকেট আছে, রেডিমেড প্যান্ট, পকেট থাকেই।
- তাইলে তুমি কিসের হিমু হইলা? হিমুদের তো পকেট থাকে নাহ।
- হলুদ হিমু হওয়া সহজ, কিন্তু নীল হিমু হওয়া কঠিন দেখে কেউ হতে চায় নাহ, কিন্তু আমি নীল হিমু।
- তাই নাকি? আচ্ছা, আমি যদি নীল হিমুর নীলিমা হতে চাই তাহলে কি করতে হবে আমায়?
- আপাতত বসে বসে মুড়ি খেলেই চলবে। আজান দিয়েছে, ইফতারী করছি, তুমিও করো।
- খাইছে, নেশাখোরদের যে ধর্মভীতি থাকে সেটা জানা ছিল নাহ।
- আজব, ধর্মভীতি আসবে কই থেকে, নেশাখোরদের রোজা রাখতে নিষেধ আছে নাকি?
- না তা নেই, কিন্তু আমার জানামতে নেশাখোর ছেলেদের ধর্মের প্রতি কোন আগ্রহ, ভয় কোনটাই থাকে নাহ।
- আমারও খুব একটা যে আগ্রহ বা ভয় আছে ধর্মের প্রতি তা নাহ। এটার আগমন মূলত বিশ্বাসের উপর থেকে।
- সে সাথে ভয়ও।
- ধর্মে ভয় দেখিয়ে ছাগল খেদানোর মত করে বোকাদের ধর্ম পালন করতে বাধ্য করা হয়, আর যার বুদ্ধিমান তাঁরা ধর্মটাকে আঁকড়ে ধরেন মূলত বিশ্বাসের উপর থেকে।
- ধূর তোমার সাথে কথায় পারা যাবে নাহ। শোন, এতকিছু বুঝি নাহ, এখন থেকে আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড। আমি যেটা বলব সেটাই সত্য বলে মেনে নিবা, না হলে চিমটি খাবা। আমার রাগ হলে রাগ ভাংগাবা, না হলে চিমটি খাবা। আমায় কাঁদালে চিমটি খাবা, বুঝতে পারছ?
- হু, বুঝছি, এখন থেকে ভাত না খেলেও চলবে আমার, তোমার চিমটি খেতে খেতেই পেট ভরে যাবে আমার।
- কি বললা? জোরে বলো, শুনি নাই।
- কিছু নাহ, আচ্ছা রাখছি এখন, পরে কথা হবে।
মেয়েটাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিলাম। ওর নামটা জিজ্ঞাসা করা হয় নি, পরে একসময় জেনে নিতে হবে।
রাস্তায় কুকুরগুলো এখনো পিছু পিছু আসছে, আমিও হেঁটে চলেছি, উদ্দেশ্যহীন, গন্তব্যহীন।
সিগারেট খাবার জন্য খুব মন খুব আনচান করলেও কোন চায়ের দোকান খোলা পেলাম নাহ। হয়তো রোজার মাস বলেই দোকানগুলি বন্ধ।
এক লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, সাথে সাইকেল, সেটায় একটা ছোটখাট ব্যাগের মত কি যেন।
তাঁকেই জিজ্ঞাসা করলাম, 'ভাই সিগারেট কই পাওয়া যায়?'
'কি সিগারেট?'
'গোল্ড লীফ, দুইটা হলেই হয়। আছে?'
সে তাঁর ব্যাগ হতে একটা লীফের প্যাকেট হতে দুটো গোল্ড লীফ বের করে দিল।
খুব খুশি মনে ব্যাটাকে বিশ টাকার একটা নোট দিতে সেটা নিজের পকেটে চালান করে দিল। বাকী দেবার কোন নাম গন্ধ নাই।

চাইতেই সে বলল, 'ভাই রাতের রেট এটা। আর লাগবে আপনার?'
আর কথা না বাড়িয়ে হাঁটতে লাগলাম, পথে টহলরত এক পুলিশের গাড়ির সামনে পড়ে গেলাম।
- বাসা কই?
- যেখান থেকে আসছি।
- যান কই?
- বিড়ি খাইতে।
- ঐ রশিদ, এই হালারে একটু চেক কর তো, কথার ভাবভংগি ভালা লাগতেছে নাহ।
- চেক করার কি আছে, আমার কাছে যন্ত্রপাতি আছে কিনা সেটা চেক করতে চাইছেন? শুধু শুধু কষ্ট করবেন কেন? আছে রে ভাই আছে, আমার কাছে যন্ত্রপাতি আছে।
- আবে হালা কস কি? ঐ রশিদ ধর হালারে, নগদে হ্যান্ডকাফ লাগা, ঐ আবুল গাড়ি স্টার্ট দে।
- স্যার, হাতকড়া লাগানো লাগানো লাগবে নাহ, আমি নিজেই আপনাদের সাথে যাচ্ছি।
জেরারত দারোগাটি বিভ্রান্ত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কি করবেন বুঝতে পারছেন নাহ, আমি নিজে গাড়ীর ভেতরে উঠার সাথে সাথে আমাকে অনুসরণ করে গাড়ীতে উঠে বসলেন চুপচাপ।
থানায় পৌঁছার পরপরই ওসির রুমে তলব পড়ল আমার। ওসির গায়ে পুলিশের শার্ট, কিন্তু পড়নে লুংগি।
শার্টের ব্যাজে আক্কাস বি মাইনাস লেখা, কথাটার অর্থ ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম নাহ।
মানুষ এখন পরীক্ষাতে এ প্লাস পেলেও সেটা কাউকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করে নাহ, এ প্লাস এতটাই সস্তা।
সেখানে এই লোক ব্যাজে নামের পাশে বি মাইনাস ঝুলিয়ে রেখেছে কোন আক্কেলে? সে সারজীবন পরীক্ষাতে বি মাইনাস পেয়েও এখন থানার ওসি এটা মানুষকে দেখাতে? মাথায় তাঁর টাক চকচক না করলেও সেখানে চুলের অভাব দেখতে পাচ্ছি। যেসব ওসির মাথায় চুল কম থাকে, তাঁরা ভীষণ বদরাগী হয়ে থাকে শুনেছি। আক্কাস সাহেবের মুখে আক্কাস বিড়ি না থাকলেও একটা গোল্ড লীফ সাঁই সাঁই করে জ্বলছে। বিড়ির সাথে সাথে তাঁর মুখে একটা হাসির ধারাও দেখতে পাচ্ছি। মনে হয় এই লোক সবসময় মুখে হাসি ধরে রাখা টাইপ পাবলিক। দেখা গেল কেউ এসে তাঁকে জানাল যে তাঁর ছেলে অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, তখন তিনি মুখের হাসি হাসি ভাবটা ধরে রেখেই হয়ত তাঁর স্ত্রীকে বলবেন, 'এই শোন, খোকা অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, আমি বের হয়েছি, তুমি কোন চিন্তা করো নাহ কেমন?' অন্যদিকে কর্তব্যরত অধস্তনকে ডেকে হাসি হাসি মুখে বলবেন, 'রফিক সাহেব, ছেলেটা অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, আমি একটু বের হলাম, আপনি এদিকটা দেখে রাখবেন।' রফিক সাহেবের মাথায় কথাগুলো পুরোপুরি কাজ করার পূর্বেই হয়ত তিনি বের হয়ে গেছেন ততক্ষণে।
আমার দিকে তাকিয়ে তিনি সিগারেটের ফাঁক দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এখনো মুখে হাসি হাসি ভাবটা বহাল আছে,
- নাম?
- নীল।
- কি কর?
- পড়ি আর হাঁটি।
- এই দুইটা কাজ একসাথে করা যায় নাকি?
- জি স্যার, ট্রাই করে দেখবেন একবার, খুব বেশি মজা পাবেন পড়ে।
- হুম, কি কারনে থানায় আনা হইছে তোমাকে?
- কেন স্যার, কারন ছাড়া এখানে আসা কি বাড়ন?
- প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়ে কর কেন?
- আপনি এমন প্রশ্ন করতেছেন যা তাঁর উত্তর প্রশ্ন দিয়েই সঠিকভাবে দেয়া যায়।
-হুম, চা, বিড়ি, গাজা, অভ্যাস আছে?
- অভ্যাস না থাকলেও অনভ্যস্ত নই, তবে রোজার মাস বলে শুধু চা আর সিগারেটেই চলবে আমার।
- আচ্ছা, তুমি বসো আমি আসতেছি একটু।
আমার দিকে সিগারেটের প্যাকেটটা বাড়িয়েই পাশের রুমে যেয়ে আমাকে যিনি ধরেছিলেন, সেই দারোগাকে ডাক দিলেন তিনি।
তাঁর সাথে কতক্ষণ চাঁপাস্বরে কথা বলে গেলেন তিনি। কিছুক্ষণ তর্জন গর্জন করে চললেন, অতঃপর ফিরে আসলেন ধীরে ধীরে।
- তোমার কাছে যন্ত্রপাতি আছে কিনা জিজ্ঞাসা করার সাথে সাথেই স্বীকার করতে গেলে কেন?
নাও তো করতে পারতে।
- মিথ্যা বলা আমার স্বভাবে নেই।
- ও আচ্ছা, তা শুনি তোমার যন্ত্রপাতির বিবরণ।
- স্যার কি সত্যিই শুনতে আগ্রহী?
- হ্যাঁ, বলতে থাকো।
- এটি দেখতে ঘন কালো, আপনি রয়েল ব্ল্যাক বলেও অভিহিত করতে পারেন। আশেপাশে কখনো চুল থাকে, কখনো থাকে নাহ। খুবই স্পর্শকাতর, তাঁর মানে এই নাহ যে স্পর্শে কাতুকুতু লাগার মত অনুভূতি হয়, বরং তখন সগর্জনে রেগে মেগে ফুঁসে ওঠে।
- হয়েছে হয়েছে থাক আর বলতে হবে নাহ। ফাজিল পোলা, ফাইজলামী করো পুলিশের সাথে? কানের নিচে একটা বয়রা খাইলে পুরা সিধা হয়ে যাবা বজ্জাত ছেলে কোথাকার।
- স্যার, আপনার আগের ওসিও একই কথা বলেছিলেন, কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়ে পোস্টিং নিয়ে নিজ ইচ্ছাতে বান্দরবান চলে গিয়েছিলেন।
- তবে রে হারামজাদা।
হাসি হাসি মুখটা হঠাত করে বদলে গেল, টেবিলের উপর হতে লাফিয়ে আমাকে চড়ানোর একটা প্রবণতা দেখা গেল আক্কাস সাহেবের ভেতর। ঠিক তখনই একটা ফোন আসল ওসি সাহেবের অফিশিয়াল টেলিফোনে।
ফোনটা বেজেই চলছে ক্রমাগত। আমাকে চড়াবেন নাকি ফোনটা ধরবেন সেটা নিয়ে কিঞ্চিত দ্বিধাগ্রস্ত তিনি। সময় খুব খারাপ যাচ্ছে, কার না কার ফোন সেটা না ধরে কোন অহেতুক ভোগান্তিতে হয়তো পড়তে চান নাহ।
তাঁকে দ্বিধা হতে মুক্তি দিতে বলে উঠলাম, 'স্যার ফোনটা ধরুন, হয়তো আপনার ছেলের রক্তের গ্রুপের সাথে ম্যাচ করে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া গেছে।'
কথাটা শোনার সাথে সাথেই চমকে উঠলেন তিনি, টেলিফোনটা উঠালেন, তাঁকে শুধু হ্যালো বলতে শুনলাম, এরপর কতক্ষণ তিনি হু হা করে গেলেন। ডায়ালটা নামানোর পর শুধু অস্ফুটে গলাতে এটুকুই বলতে শুনলাম, 'ফাক।'
আমার দিকে তাকালেন, একটা ফোনকলেই তাঁর চোখমুখের ভাব পাল্টে গেছে। কিছুটা বিস্ময় এসে ভর করেছে তাঁর চোখেমুখে। সাধারণত পুলিশরা বিস্মিত হয় নাহ, তাঁদের এই অনুভূতিটা চাকরির দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাদের অনুভূতি থাকে তিনটা, রাগ, ক্রোধ এবং ভয়। তাই হঠাত ওসি সাহেবকে বিস্মিত হতে দেখে কিছুটা উপভোগই করছিলাম ব্যাপারটা।
নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলে উঠলেন, 'আমার ছেলের রক্ত লাগবে সেটা কিভাবে জানেন আপনি? আর ওর ব্লাড গ্রুপ ম্যাচ করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছি নাহ সেটাও বা কিভাবে বুঝলেন?'
পুলিশদের অন্য আরেকটা যে স্বভাব আমাকে খুব মজা দেয় সেটা হলো তাঁরা যে কোন সময় আপনি, তুমি, তুই নামক সম্বোধনগুলোর একটা হতে অন্যটায় চলে যেতে পারে।
- সেটা অনুমান করেছি। বাদ দিন সেই কথা। তা আপনার ছেলের জন্য ডোনার পেয়েছেন কি?
- হ্যাঁ পাওয়া গেছে, কিন্তু এখনো আরো দুই ব্যাগ লাগবে, কি যে করব বুঝতে পারছি নাহ।
হঠাত নিজের কথাগুলো আমার কাছে বলতে শুরু করাতে কিছুটা লজ্জিত বোধ করা শুরু করলেন আক্কাস সাহেব। 'আমার কথা বলা শুরু করে দিলাম অকারণে। আপনার কথা বলুন, ঠিক কি কারনে এরকম থানাতে আগমনের ইচ্ছা হলো আপনার? নিন, সিগারেট নিন।'
সিগারেট জ্বালিয়ে গল গল করে ধোঁয়া ছাড়ার আগ পর্যন্ত কিছুই বললাম নাহ, তাঁর উৎসুক দৃষ্টিকে সম্পূর্নরূপে উপেক্ষা করে গেলাম।
ধোঁয়া ছাড়ার পর বললাম, 'আসলে কোন কারন ছিল নাহ, অনেকদিন পর আজ ঘর হতে বের হয়েছিলাম, বাসাতে ফেরার পথে পেট্রোল ডিউটিতে থাকা পুলিশের গাড়ীটা দেখি। তখন মনে হলো, অনেকদিন থানার ভেতরে আসা হয় নাহ, তাই একটু ঘুরে আসি।'
কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন ওসি সাহেব, তারপর বললেন, 'মন চায় আপনাকে নিয়ে ফুটবল খেলি। কিন্তু কেন জানি সেটা করতে পারছি নাহ। বিদায় হন সামনে থেকে। থানার আশেপাশে আপনাকে যেন আর না দেখি।'
থানার গাড়ীতে করে আধা রাস্তা যখন পার হলাম, তখন ড্রাইভারকে গাড়ী থামাতে বলে পুনরায় হাটা শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে এলাকাতে পৌঁছে গেলাম একসময়।
রাস্তার কুকুরগুলো যেন এতক্ষণ ধরে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমাকে দেখেই সাদা কুকুরটা কঠিন এক হাঁক ছাড়লো, সারা জীবনেও মনে হয় নাহ কুকুরটা এত জোরে ডাক দিয়েছে। এরপর হাঁক ছাড়লো কালো কুকুরটা, এরপর বাকি কুকুরগুলো একসাথে। অনেকটা অভ্যর্থনা জানবার মত করে। আমি ওদের ছেড়ে খানিক এগোতেই সাদা কুকুরটা পেছন পেছন আসতে লাগল। সাদা কুকুরটার পেছনে কালো কুকুরটা। কালো কুকুরটার পেছনে ওদের বাকি চ্যালাগুলো।
হুজুর টাইপ লোকটার বাসা যখন অতিক্রম করছিলাম, তখন দোতালা হতে হালকা কথা ভেসে আসতে লাগল, দুইটা পুরুষ কন্ঠের ফিসফাস। একজনের আর্তধ্বনি, অন্যজনের চরম পুলক প্রাপ্তির উল্লাস।
সেহরির সময় ডিসোফ্যান খাওয়াতে পরদিন পুরোটা সময় ধরে ঘুমালাম, খালি ইফতারের আগমুহূর্তে সেই বয়স্ক ভদ্রমহিলার একটানা ফোনে ঘুম ভাংগল। মহিলা নিজেকে এখন অনেকটাই শক্ত করে নিয়েছেন, আমাকে তাঁর পুত্রের মত শাসন করেন, আমিও বাঁধা প্রদান করি নাহ। কথা বলতে বলতে এক সময় তাঁর ছেলের ফোন নাম্বারটা নিয়ে রাখলাম। কেন নিলাম, জানি নাহ, কিন্তু মনে হলো নেয়া দরকার, তাই নিয়ে নিলাম।
রাতে আবার বের হলাম, কাব্য ছেলেটার কোন খবর নেই গোটা মাস ধরে, ওকে নিয়ে আমি বেশি একটা চিন্তাও করছি নাহ।
রাতে বের হয়েই আবার কুকুরগুলোর সাথে দেখা হয়ে গেল, আজকেও অনুসরণ করছে, তবে কিছুটা দূরত্ব রেখে। নিজেকে কুকুরদের নেতা ভাবতে কেমন যেন লাগছে।
হুজুর টাইপ লোকটার বাসা হতে আজও আগের রাতের মত একজনের চাপা আর্তনাদ এবং অন্যজনের উল্লাসধ্বনি ঠিকই শুনতে পেলাম। হঠাত কি মনে হতে ভদ্রমহিলার থেকে পাওয়া তাঁর ছেলের নাম্বারে ফোন দিয়ে বসলাম। তখন দোতালার চাঁপা শব্দ হওয়া ঘরটার উল্লাস করতে থাকা পুরুষকন্ঠটার কিছুটা বিরক্তময় গলা শুনতে পেলাম। 'এই সময় কোন হালায় ফোন দেয়...' ফোনটা কেটে দিয়ে পুনরায় সামনে হাঁটতে থাকি।
আগের রাতের সেই বিড়ি বিক্রেতাকে আজও পেয়ে গেলাম। বেটা যে আজকেও টাকা মারবে সেটা আগে থেকেই জানা থাকার পরও এক প্যাকেট লীফ দিতে বললাম। ঠিক তখন গতরাতের পেট্রোল গাড়ীটা সামনে এসে হাজির হলো। আজকেও আগের দিনের সেই দারোগা এগিয়ে আসছে।
- গাড়ীতে উঠুন, স্যারের নির্দেশ।
- (বিড়ি বিক্রেতাকে দেখিয়ে) ও আমার কাছে টাকা পায়, কিন্তু আমার কাছে কোন টাকা নেই। টাকার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এখান থেকে যেতে পারছি নাহ।
- তাহলে এই ব্যাটাকেও সাথে করে নিয়ে আসুন আমাদের সাথে।
বিক্রেতা ছেলেটা প্রচন্ড আকারের ভয় পেয়ে গেছে। সিগারেট প্রতি ২/৩ টাকা লাভের জন্য রাতে ব্যবসা করে সে, কিন্তু মনে হয় নাহ, আজকের পর আর কখনো রাতে বিক্রি করতে নামবে সে।
গাড়ী থানা যাবার রাস্তাতে না যেয়ে ডানদিকের রাস্তাটা ধরল। আমি সিগারেটের প্যাকেট হতে একটা সিগারেট ধরালাম। বিক্রেতা ছেলেটা ইতিমধ্যেই ভয়ে কাপছে। কথা বলে জানতে পারলাম, ওর নাম আরিফ, বয়সে আমার চেয়ে ৩/৪ বছর ছোট হবে।
সিগারেটে টান দিতে দিতে ভাবছি ওসি সাহেব আমাদের জামাই আদর করতে ডাকলে থানাতেই নিয়ে যেত, কিন্তু তা না করে অন্য কোথাও যখন নিচ্ছে তখন এনকাউন্টার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে নাহ।
পরদিন পত্রিকার শিরোনাম কি হতে পারে সেটা ভেবেই শিহরিত হয়ে উঠলাম। পুলিশের সাথে তুমুল বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত সন্ত্রাসী নীল ও তাঁর এক চ্যালা নিহতঃ বিপুল পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধার, আহত ১ জন পুলিশ।
কিন্তু সেটা বাস্তবে পরিণত হতে পারল নাহ, যখন গাড়ী থামার পর নেমে দেখি আমাদের একটা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
আমি আরিফকে নিয়ে কেবিনে পৌছাতেই আমাদের দেখে বাচ্চাদের মত কেঁদে উঠলেন শক্ত স্নায়ুর ওসি ও একজন বাবা আক্কাস সাহেব। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতেই বলে উঠলেন, 'নীলদা, নিজের জানামতে কোন পাপ করি নাই সজ্ঞানে। তাহলে কিসের শাস্তি দিচ্ছে খোদা আমাকে? মাত্র এক ব্যাগ রক্ত দরকার, তাহলেই ডাক্তার অপারেশন শুরু করতে পারেন, কিন্তু আমি কি বাবা হয়ে আমার ছেলের দরকারের সময় এভাবেই চুপচাপ অথর্ব হয়ে থাকব?'
উত্তরে তাঁকে কিছুই বললাম নাহ। মানুষের আবেগ অনুভূতির খুব একটা দাম নেই আমার কাছে, কখনোই ছুঁয়ে যায় নাহ আমাকে।
সামনে তাকিয়ে দেখলাম একটা ৯/১০ বছরের বাচ্চা শীর্ণ দৃষ্টিতে তাঁর মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। প্রথম যে জিনিসটা মাথায় আসল তখন, মহিলা এখনো কিভাবে শান্ত আছেন।
এগিয়ে গেলাম বেডের দিকে, পিচ্চিটাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কি রে ব্যাটা,কেমন আছিস?'
'ভালোই তো আছি কাকু, কিন্তু দেখ না, বাবা শুধু শুধু ভয় পাচ্ছে।'
'তোর অপারেশন করতে দেরি হলে কিছু হয়ে যায় কিনা, সেটার ভয় পাচ্ছে সে।'
'হুহ, আমার কোন কচুও হবে নাহ। বাবা বলেছে, তোমার নাকি সুপার পাওয়ার আছে, আমাকে ঠিক করে দিতে পারবে মুহূর্তেই, কি পারবে নাহ?'
আড়াআড়ি দৃষ্টি বিনিময় হলো আক্কাস সাহেবের সাথে, 'কেন পারব নাহ? অবশ্যই পারব। তাঁর আগে বল, অপারেশন থিয়েটারে নিলে ভয় পাবি না তোহ?'
'না কাকু, একদমই নাহ, কিন্তু তুমি একটু তাড়াতাড়ি করো, মাথায় খুব ব্যাথা করছে।'
আক্কাস সাহেবের দিকে তাকালাম, 'ডাক্তার ডাকুন, আরো এক ব্যাগ রক্ত দেবার লোক পেয়ে গেছেন।'
আমার কথা শুনে চোখের পানি মুছে ডাক্তার ডাকতে গেলেন আক্কাস সাহেব।
আরিফের দিকে তাকালাম, 'রক্ত দিতে পারবে তো?'
'কি যে কন আপনে? এত সুন্দর একটা পিচ্চিরে বাঁচাইতে নিজের জান দিবার পারুম।'
আরিফের ব্লাড টেস্ট করে দেখা গেল সেটা আক্কাস সাহেবের পিচ্চি ছেলে, অরিনের সাথে ম্যাচ করছে।
হাসপাতালে সিগারেট খাওয়া নিষিদ্ধ। অরিন অপারেশন থিয়েটারে, আরিফও সেখানে, রক্ত দিতে। আমি আর আক্কাস সাহেব দুজনেই সিগারেট ধরালাম। হাসপাতাল বারান্দাতে থাকা অন্যান্য রোগীদের আত্মীয়ের কাছে এবং অন্য পুলিশদের কাছে সিগারেট বেচা শুরু করে দিলাম। লীফ ১০ টাকা, বেনসন ১৫ টাকা। কেউই না করছে নাহ বা প্রতিবাদ করছে নাহ।
মাঝে সময় করে আক্কাস সাহেবের ব্যাজে বি মাইনাস লেখার রহস্য জানতে চাইলাম। তিনি যখন বললেন ওটা তাঁর রক্তের গ্রুপ, কারো রক্তের প্রয়োজন হলে যাতে তাঁকে সহজেই খুঁজে পেতে পারে, তাই এমনটা করা।
আরিফকে নিয়ে বের হয়ে আসলাম, অরিন এখন ইনটেনসিভ কেয়ারে থাকবে ৪৮ ঘন্টা। আসার সময় যে গাড়ীতে করে এসেছিলাম সেটাতে করেই ফিরে যাচ্ছি। হুজুরের চেহারা মতন লোকটার বাড়ির সামনে নামলাম আমরা। নামার পর এখনো চলে যাচ্ছি নাহ দেখে সেদিনের সেই দারোগা সাহেব আজ বিনীত গলাতে বলে উঠলেন, 'স্যারের কি এখানে বিশেষ কোন কাজ আছে? আমরা কি সাহায্য করতে পারি?'
'হ্যাঁ, কাজ আছে একটা, তবে কোন সাহায্য নেব নাহ আপনাদের থেকে। আপনারা চাইলে সেটা দেখতে পারেন, তবে গাড়ীটা একটু আড়ালে সরিয়ে নিন।'
দারোগা সরে যেতেই আরিফকে বলে উঠলাম, 'তোর মা যে এখনো তোকে খুঁজে ফিরে সেটা তুই জানিস?'
আমার কথা শুনতেই কিছুটা চমকে উঠল সে, 'আমার মায়ের কথা আপনি কিভাবে জানলেন ভাই?'
'জানি, সেটা কোন একভাবে, সেটা কথা নাহ। কথা হচ্ছে, মায়ের কথা মনে পড়ে?'
'হ্যাঁ, ভাই, খুব বেশিই মনে পড়ে। পকেটে টাকা না থাকায় বাড়ি যেতে পারি নাহ, এদিকে একদিন এক শালা ফোনটা চুরি করে নিয়ে গেছে দেখে মায়ের নাম্বারটাও হারিয়ে ফেলেছি।' কাঁদতে কাঁদতে বলে ছেলেটা।
'কান্না থামা, না হলে মজা মিস করবি।'
ফোন দিলাম সেই নাম্বারটাতে, আবার দোতালার ঘর থেকে বিরক্তপূর্ণ স্বরে কেউ ধরল ফোনটা।
'এখুনি নীচে নামো, পুলিশ রেইড দিতে আসছে।' এটা বলে কেটে দিলাম। সাথে সাথে অনেকগুলো কর্কশকন্ঠ শুনতে পেলাম বাড়িটা থেকে। হুটোপুটি, লুটোপুটির শব্দও শুনতে পেলাম। হঠাত বাড়ির দরজা খুলে হুজুর টাইপ লোকটা বের হয়ে বাইরে কি অবস্থা সেটা দেখতে উকিঝুঁকি মারা শুরু করল। সে খালি রাস্তাতে দু'জন মানুষ এবং কয়েকটা কুকুর দেখল, যার ভেতর একটা কুকুর সাদা এবং একটা কালো কুকুরও আছে।
পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হয়ে বাইরে বের হবার সাথে সাথে সাদা কুকুরটাকে বললাম, 'ধর।'
আমার বলতে দেরি, কিন্তু নির্দেশ পাবার সাথে সাথে সবগুলো কুকুর ঝাপিয়ে পড়লো লোকটার উপর, পাঁচ মিনিটের ভেতর লোকটার গলা হতে কোন শব্দ আর পাওয়া গেল নাহ, গলার টুঁটি কামড়ে ছিড়ে নিয়েছে সাদা কুকুরটা। একপাশে পড়ে থাকা ফোন আর হাসপাতালে বিক্রি করা সিগারেটের সব টাকা ছেলেটার হাতে ধরিয়ে বললাম, 'কাল বাড়ি যাবি। মায়ের সাথে একমাস থাকবি, টাকার দরকার পড়লে সেটা ওসি সাহেব দেখবেন। আর ঠিক ফজরের আজানের পর তোর মাকে ফোন দিয়ে অনেকক্ষণ কথা বলে নিবি আগে।'
ছেলেটা আমাকে জড়িয়ে ধরে এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, যেই একটু কথা বলার চেষ্টা করছে, তখনই হেঁচকি উঠে সেটা জড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষের আবেগ এত বেশি কেন?
এতক্ষণ ধরে সব দেখতে থাকা পুলিশের গাড়ীটার কাছে যেয়ে বললাম, বাড়ীটার ভেতরে কি হয় সেটা আর নাই বললাম, কিন্তু সেখানে থাকা সবগুলো ছেলেকে আপনারা আজ উঠিয়ে নেবেন এবং ওদের আজকের ভেতরই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন।


পুলিশের গাড়ীটা বাড়ির দিকে, আরিফ রাস্তার উল্টোদিকে আর আমি কুকুরগুলোর সামনে থেকে বাসার দিকে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু আজ আর বাসাতে ফিরতে মন চাচ্ছে নাহ। আকাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মনের সব কষ্টগুলো একসাথে বর্ষণ করবে আজ এই ধরাধামে। আমি হাঁটতে লাগলাম, গন্তব্যহীন, লাগামহীন।
হেডফোনে এলি গোল্ডিংয়ের বিটিং হার্ট হাই ভলিউমে ছেড়ে দিয়ে হেঁটে চলেছি গতরাত থেকে বৃষ্টির ভেতর। শরীর এবং ফোন দুটোই ভিজে একাকার, কিন্তু কোন কিছুতে পাত্তা দিচ্ছি নাহ।
বাচ্চাদের মত হাসতে পারা মেয়েটা কাল থেকে অজস্রধারায় ফোন এবং টেক্সট বর্ষণ করে গেছে, কিন্তু ইচ্ছা করেই কোন রিপ্লাই দেই নি। সর্বশেষ টেক্সটটার অল্পাংশ চোখের দৃষ্টি আর এড়াতে পারল নাহ। "কাল থেকে ভিজছ, আর কতক্ষণ? আমিও তোহ ভিজে একাকার, সর্দিও এসেছে, ঠান্ডাও লেগেছে তো।"
টেক্সটটা দেখতেই সামনে এক অপরূপ মেয়ে এসে হাজির। 'অ্যাই বোকা ছেলে, তুমি বৃষ্টিতে ভিজলে তোমায় এত বেশি নিষ্পাপ লাগে কেন? চোখ ফেরাতে পারছি না তোহ। তুমি চাও বা না চাও নীলের নীলিমা কিন্তু আমি হবই, হুহ।'
আমি কিছুই না বলে শুধু আমার বিভ্রান্তিকর হাসিটা হাসি।

By: অভ্র নীল
Facebook: অভ্র নীল 





Tuesday, 14 July 2015

রাজন হত্যা ! সম্পূর্ণ রিপোর্ট।।

রাজন হত্যার পর


সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে (১৪) হত্যার আগে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওচিত্রটি এখন মোবাইলের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে হত্যার পর একটি মাইক্রোবাস যোগে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) শিশু রাজনের মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় এ খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মুহিত আলমকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। আটকের পর তিনি পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে রাজন হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। 

এদিকে, হত্যার আগে রাজনকে চুরির অপবাদে নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ নিয়ে সিলেটসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।





ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, নীল সার্টারের একটি দোকানের সামনে ও পরবর্তীতে একটি গ্যারেজে নিয়ে রাজনকে খুঁটির সঙ্গে হাত পেছনে বেঁধে জিআই পাইপ দিয়ে পেটানো হচ্ছে।

পানির জন্য হাহাকার করছেন রাজন। কিন্তু ঘাতকরা তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন। উপস্থিত কেউ একজন বলছেন, টাইগার এনার্জি ড্রিংস এনে খাওয়াতে। আবার অন্যজন বিয়ার আনতে বলছেন।

নির্যাতনের এক পর্যায়ে মুমূর্ষু রাজন তাকে পুলিশ হেফাজতে দিতে আর্তি জানায়। তখন ঘাতকদের একজন অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, ‘তুই আমারে চিনিস’। রাজনকে নির্যাতনের ২৮ মিনিটের ভিডিও ফুটেজটির এমন দৃশ্য এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন  বলেন, নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্রের একটি সিডি তাদের হেফাজতে এসেছে।

ভিডিওচিত্রটি নিহতের বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসামিদের কেউ একজন এ দৃশ্যটি ধারণ করেছে। এখন সবস্থানে এটি ছড়িয়ে গেছে।  

নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।

এ বিষয়ে প্রথমে জালালাবাদ থানাপুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেনকে

মামলায় গ্রেফতার হওয়া মুহিত আলম ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- তার ভাই কামরুল ইসলাম, সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না



 মৃতদেহে ৬৪ আঘাত

 ময়নাতদন্তে নির্যাতনে নিহত শিশু রাজনের মৃতদেহে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তিনি  বিষয়টি জানান।

ওসি আকতার হোসেন বলেন, শিশু রাজনের মৃতদেহের বিভিন্ন অংশে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এজন্যই মাথায় ‍অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে সোমবার ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রহমতউল্লাহকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে এসএমপি।






এর আগে ৮ জুলাই মঙ্গলবার নির্মম নির্যাতন চালিয়ে শিশু রাজনকে হত্যা করা হয়। এরপর মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) করে তার মৃতদেহ গুম করতে নিয়ে যাওয়ার সময় শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকায় মুহিত নামে এক ঘাতককে আটক করে পুলিশ।

বিচার চাইলেন মা 

 সন্তানের বিছানায় লুটিয়ে পড়ে বিলাপ করে বলেন, ‘কি দোষ ছিলো আমার পোলার।তারা আমার পোলারে নির্মম নির্যাতন কইরা মারলো’।
পানির লাগি আমার সন্তানে ছটফট করছিলো। মৃত্যুর আগে এক ফুটা পানিও তারে খাওয়াইছে না তারা। অরা কাফির, অরা মুনাফিক। আমার নিরীহ পোলাডারে যেলাখান (যেভাবে) মারছে, আমিও তারা হকলর (সকলের) ফাঁসি চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী’র কাছে সন্তান হত্যার বিচার চাই’। 






কুটিনা বেগম বলেন, ‘আমার পোলারে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অত্যাচারের পর মাইরা ফালাইছে খুনিরা। আমার ছেলেরে তো আর ফিরৎ পামু না। কিন্তু তার হত্যাকারীর শাস্তি চাই। আমার মতো আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়।‘ এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটাইছে, সেই ভিডিও দেইখ্যা জ্ঞান হারাইয়া ফেলি।’ 
গত ৮ই জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ওইদিন দুপুরেই একটি মাইক্রোবাসযোগে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) তার মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়। এ সময় শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকা থেকে স্থানীয়দের  সহায়তায়  খুনিদের অন্যতম মুহিত আলমকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।


ক্ষোভে ফেটে পড়ছে ফেসবুক 


এরকম ক্ষোভ, এরকম প্রতিক্রিয়া- মানুষের একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে, এতো স্বতঃস্ফূর্ত, অন্তত সাম্প্রতিক সময়ে কোনো একটি ঘটনায় চোখে পড়েনি।
সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটির হোম পেজে গেলেই স্পষ্ট বোঝা যায় এই নিষ্ঠুরতা মানুষজনকে কিভাবে নাড়া দিয়েছে। 
সিলেটে ভিডিও ক্যামেরার সামনে এক কিশোরকে পেটানোর পর তার মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ, ঘৃণা, যন্ত্রণা আর অসহায়ত্বের কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।









তারা ছবি দিয়ে, স্ট্যাটাস লিখে, মন্তব্য করে, এমনকি নিজেদের মন্তব্য দিয়ে তৈরি করা ছোট ছোট ভিডিও করেও সেসব পোস্ট করছেন।


তাদের ক্ষোভ এতোটাই তীব্র যে কেউ কেউ রাজন নামের ওই কিশোরকে যেভাবে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে, নির্যাতনকারীদেরকেও সেই একইভাবে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই দাবি জানিয়ে একজন মন্তব্য করেছেন, “আমার এ ইচ্ছায় মানবিকতা যদি আহত হয়, রাষ্ট্র যদি নাখোশ হয়, তবুও নড়বো না একচুল এ দাবি থেকে ...।”

একজন লিখেছেন, “পাড়ার এমন কোন বাড়ি নেই যার গাছের ফল আমি বা আমার বন্ধুরা চুরি করিনি! রাজন হত্যার ভিডিওটি দেখে খুব কষ্ট পেলাম! আর সহ্য হচ্ছে না! তাই আমি চিৎকার করে বলছি; রাজনের মতো আমিও চোর! আমায় হত্যা করো!”
আরেকজনের মন্তব্য এরকম: “ভিডিওটি দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। রাজনের অসহায় নিষ্পাপ মুখ দেখে মনে হল, পৃথিবীটা এত কদর্য হতে পারে, সেটি মৃত্যুর খানিক আগেও বোধহয় সে বুঝতে পারেনি।

কেউ লিখেছেন তারা ভিডিওটি দেখতে চান নি। কারণ এটা দেখার সাহস নেই তাদের। যারা দেখেছেন তারাও লিখেছেন যে কিছুক্ষণ দেখার পর তারা সেটা আর দেখতে পারেন নি।
একজন মন্তব্য করেছেন: "রাজন, যে মাটিতে তুমি শুয়ে আছো এ তোমার দেশ ছিল। এখানেই তুমি ভূমিষ্ঠ হয়েছো; হামাগুড়ি দিতে দিতে একদিন দাঁড়িয়ে এই দেশকেই তুমি দেখেছ। আজ মাতৃভূমি তোমাকে যে দাম দিল- এ আমার জাতির লজ্জা। তোমার জীবনের শেষ আর্তিগুলো ফ্রেম-বন্দি- কিন্তু আমি ভয়ে চোখ সরিয়ে নিয়েছি।”

একজনের স্ট্যাটাস: “একবার ভাবলাম কিছুই লেখার দরকার নেই। লিখে কী হবে? কিন্তু তারপর লিখলাম। হয়তো কাল রাত থেকে মাথার ভেতরে যে যন্ত্রণা কাজ করছে সেটা উগড়ে দেয়ার জন্যই লিখলাম। আমরা এভাবে অনেক কিছু লিখি, লিখে দায়মুক্ত হতে চাই হয়তো।”



আরেকজনের মন্তব্য এরকম, ভিডিওটি দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। রাজনের অসহায় নিষ্পাপ মুখ দেখে মনে হল, পৃথিবীটা এত কদর্য হতে পারে, সেটি মৃত্যুর খানিক আগেও বোধহয় সে বুঝতে পারেনি...

আরেকজনের স্ট্যাটাস: একবার ভাবলাম কিছুই লেখার দরকার নেই। লিখে কী হবে? কিন্তু তারপর লিখলাম। হয়তো কাল রাত থেকে মাথার ভেতরে যে যন্ত্রণা কাজ করছে সেটা উগড়ে দেয়ার জন্যই লিখলাম। আমরা এভাবে অনেক কিছু লিখি, লিখে দায়মুক্ত হতে চাই হয়তো..



video: 

By: Fahim Faysal Sowrav



Monday, 13 July 2015

কেন ব্লক হয় FB আইডি!

বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। মাতামাতি হবেনা কেনো, এই ফেসবুকের কল্যানেই তো অনেকদূরে থেকেও সবাই কতো কাছাকাছি।
কিন্তু সমস্যা হল ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে হঠাৎ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়া নিয়ে । হুম এটা বর্তমান সময়ে খুবই ঘটছে। আপনার প্রিয় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চলতে চলতে হটাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেন অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগে। আর আজকে আমি সেই সব কারণ এর মধ্যে ১০টি প্রধান কারণ আপনাদের সামান্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো :



১. ফেসবুক স্ট্যাটাসে বা ম্যাসেজে আক্রমাত্মক এমন কিছু লিখবেন না যেটা পড়ে মনে হয় আপনি কাউকে হুমকি দিচ্ছেন এমনটা যদি করেন তাহলে সেই বাক্তি যদি আপনার অ্যাকাউন্টে রিপোর্ট করে তাহলে আপনি কিন্তু ব্লক হতেই পারেন, ভারতীয় ফেসবুক এই অভিযোগটিকে খুবই গুরুত্ব সহ বিচার করে। তাই আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট টি থেকে কাউকে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. আমারা যারা নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট করি তারা ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিস্ট বন্ধু বাড়ানোর জন্য এক দিনে একাধিক জনকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে দিই যা মোটেও ঠিক নয়। এই ভাবে সীমা অতিক্রম করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
. একই দিনে যদি ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে একই ম্যাসেজ লিখে একাধিক বার ম্যাসেজ করা হয় তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যেটে পারে । এ ক্ষেত্রে আপনি সেই সব ম্যাসেজ করার সময় কিছুটা পরিবর্তন করে করে ম্যাসেজ করুন ।
. আপনি যদি আপনার নিজের ফেসবুক ওয়ালেও একই পোস্ট একাধিক বার দেন তাহলে সেটাকে ফেসবুক স্প্যাম ভেবে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে তাই এটা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন।
৫. আপনি যদি প্রতিদিন একাধিক ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক করেন তাহলে আপনাকে প্রথমে সতর্কবার্তা দেবে। আপনি যদি তাও একি ভাবে কাজটি চালিয়ে যান তাহলে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে।
. পর্নোগ্রাফি মানে অশ্লীল ফটো কিংবা ফটো পোস্ট বা আপলোড করতে আপনি ভালবাসলেও ফেসবুক কিন্তু এটা একেবারেই পছন্দ করে না তাই এই অশ্লীল ফটো ভিডিও পোস্ট থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন।
৭. আপনি যদি আপনার নাম বাদে ফেক নাম মানে কোন কোন বড় সেলিব্রেটির নাম দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট খুলেন এবং সেই অ্যাকাউন্ট এ অভিযোগ হলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হতে পারে।
৮. আপনি আপনার বাড়ির প্রিয় পোষা বিড়াল বা কুকুর টিকে খুব ভালবাসেন তাই তার নাম দিয়ে একটা অ্যাকাউন্ট করে দিলেন তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিবে ফেসবুক।
৯. আপনি যদি ভাবে আপনার অ্যাকাউন্ট টিকে আপনার প্রতিষ্ঠান এর বিজ্ঞাপন এর জন্য ব্যবহার করবেন তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন এই ভাবে কোন অ্যাকাউন্ট চালালে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হতে বাধ্য।



১০. এছাড়াও প্রচুর পরিমানে বিরক্তি কর ফটো ট্যাগ , ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে এবং সেটা ফেসবুক শনাক্ত করতে পারলেই সেই অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়।

By: Habiba Sultana Himu 
Facebook: Habiba Sultana Himu
  

ভাইরাসের কারনে আপনার পিসির ড্রাইভ open করতে পারছেন না ?

প্রায়ই দেখা যায় ভাইরাসের (Virus) কারনে আপনার পিসির ড্রাইভ (Hard Drive) যেমন- C,D,E,F মাউসের ডাবল ক্লিকে open করতে যাচ্ছেন তখন open With অপশন আসছে অথবা error মেসেজ দেখাচ্ছে। হঠাৎ এ ধরনের সমস্যা আপনার জন্য সত্যি বেশ একটা বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়। সাধারনত এই ঘটনাটা ঘটে autorun ভাইরাস অ্যাটাক এর দরুন। তাই আমাদের পিসির C,D,E,F বা এই জাতীয় ড্রাইভগুলো যখনই open করতে চাই আমরা ব্যর্থ হয়ে থাকি । আবার অনেক সময় দেখা যায় আপনার ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বা পেনড্রাইভে অটোরান (autorun.inf) ফাইল রান করছে । সেগুলো Delete করতে যাচ্ছেন কিন্তু Delete হচ্ছে না।



তাই আজকে দেখব কিভাবে এটার একদম সহজ সমাধান করতে পারবেন ।
নিচে সহজ সমাধানগুলো দেয়া হল :-
১। প্রথমে windows menu+R প্রেস করে Run এ যান তারপর cmd টাইপ করুন। (দেখবেন কম্যান্ড প্রমট ওপেন হয়েছে) ।
২। এবার টাইপ করুন “cd\” তার পরে এন্টার চাপুন। (কোটেশন দিবেন না)
৩। এবার আপনার ভাইরাস আক্রান্ত ড্রাইভ এর নাম দিন , যদি D ড্রাইভ হয় তাহলে D: লিখে ইন্টার দিন ।
৪। এবার টাইপ করুন ” attrib -r -h -s autorun.inf
৫। তারপর টাইপ করুন ” del autorun.inf
এখন দেখুন আপনার পিসির হার্ড ড্রাইভ ডাবল ক্লিকে(Double Click) ওপেন না হওয়ার সমস্যাটি ঠিক হয়ে গেছে। এভাবে ইচ্ছে করলে আপনি আপনার ফ্ল্যাশ ড্রাইভ থেকেই autorun.inf ফাইল Delete করতে পারবেন।

ধন্যবাদ.........

By: Habiba Sultana Himu
facebook: Habiba Sultana Himu




Sunday, 12 July 2015

মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন!!

চোখের প্রতিস্থাপন। কিডনির প্রতিস্থাপন। হৃদপিণ্ডের
প্রতিস্থাপন। চিকিৎসায় একের পর এক ধাপ পেরিয়েছে
বিজ্ঞান। বাকি ছিল শুধু মস্তিষ্কের প্রতিস্তাপন। এও কি সম্ভব?
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাচ্ছে
রাশিয়া। ৩০ বছরের ভ্যালারি স্পিরিডিনভের মস্তিষ্ক
প্রতিস্থাপিত হতে চলেছে অন্য মানুষের দেহ। এই দুঃসাহসিক
অপারেশনটি হতে চলেছে ২০১৭ সালে। অনেকেই এই
প্রতিস্থাপনের সফলতা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। ‘আদেও কি সফল
হবে মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন’? প্রশ্ন আর বিস্ময় যতই দানা বাধুক,
বিজ্ঞানের অগ্রগতির দিকে এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপকে কুর্নিশ
করছে গোটা বিশ্ব।

রাশিয়ার ভ্যালারি স্পিরিডিনভ এখন হফম্যান রোগে আক্রান্ত।
মস্তিষ্ক বাদে পুরো দেহটাই অকেজ হয়ে গেছে তাঁর। হুইল
চেয়ারে কাটছে জীবন। মৃত্যুর আগে নিজের মস্তিষ্ক দিয়ে
যেতে চান অন্যের দেহে। তাঁর এই ইচ্ছেকেই সম্মান জানাতে
চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। সফল কিংবা অসফল, ফলাফল যাই
হোক না কেন, মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনে প্রথম নজির গড়তে
চলেছেন ৩০ বছরের ভ্যালারি স্পিরিডিনভ।



ইতালিয়ান স্নায়ুবিজ্ঞানী ডঃ সার্জিও ক্যানভারো দাবি
করছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এই দুঃসহ কাজ করতে পারবেন।
‘মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনে সফলতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে ৯০%।
কিন্তু এটাও সত্যি, এক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকিও রয়েছে। আমি তা
অস্বীকার করতে পারিনা’, মন্তব্য ডঃ সার্জিও ক্যানভারোর।
তবে এই দাবিতে সর্বতোভাবে সহমত দিতে পারছেন না
অনেকেই। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসকরা মনে করছেন,
এখনও পর্যন্ত ভ্যালারি স্পিরিডিনভের মস্তিষ্ক কাজ করছে।
কিন্তু তা প্রতিস্থাপনের পর সেটি আর কাজ করবে কিনা তা
নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ রয়েছে।
তবে নিজের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনে আশাবাদী ভ্যালারি
স্পিরিডিনভ। তিনি বলেন, ‘যদি আমি আমার গোটা দেহ
প্রতিস্থাপনের সুযোগ পেতাম, আমি পরাধীনতা থেকে মুক্তি
পেতাম’।
শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন।

By: Fahim Faysal Sowrav


Wednesday, 8 July 2015

শবে কদর এর পরিচয়


আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সুপ্রিয় ভাই ও বোন,
দেখতে দেখতে মাহে রামাযান আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আমরা এসে পৌঁছেছি শেষ দশকে। সৌভাগ্যবান লোকেরা এ মাসে আঁচল ভরে পাথেয় সংগ্রহ করছে আর হতভাগারা এখনো অন্ধকারের অলি-গলিতে উদ্ভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কল্যাণের বারি বর্ষণ এখনো শেষ হয়ে যায় নি। বন্ধ হয়ে যায় নি তাওবার দরজা বরং আরও বশি সুযোগ নিয়ে মাহে রামাযানের শেষ দশক আমাদের মাঝে সমাগত। আজকের এই পোস্টে দেখব আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য এতে কী উপহার সাজিয়ে রেখেছেন এবং আমরা কীভাবে তা সংগ্রহ করতে পারব।


১) রামাযানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রী-পরিবার সহ সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন:
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ
রামাযানের শেষ দশক প্রবেশ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন, নিজে সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগাতেন।”
 কোমর বাঁধার অর্থ হল: পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে চেষ্টা-সাধনায় লিপ্ত হওয়া। কোন কোন আলেম এর ব্যাখ্যায় বলেন: স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকা।

২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে শেষ দশকে যত বেশি পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না:
আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَجْتَهِدُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِى غَيْرِهِ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না।”

শবে কদর

১) শবে কদরে কুরআন অবর্তীণ হয়েছে: আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি শবে কদরে।” (সূরা কাদর: ১)

২) শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম:
আল্লাহ বলেন:
 لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
“শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা কাদর: ৩)

৩) আল্লাহ তায়ালা শবে কদরকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করেছেন:
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ
নিশ্চয় আমি ইহা (কুরআন)কে অবর্তীণ করেছি একটি বরকতময় রাতে।” (সূরা দুখান: ৩) (আর এ রাত হল শবে কদর।)


৪) শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করলে পূর্বের সকল ছোট গুনাহ মোচন হয়ে যায়:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সোয়াবের আশায় শবে কদরে রাত জাগরণ করে নফল নামায ও ইবাদত বন্দেগী করবে তার পূর্বের সকল (ছোট) গুনাহ মোচন করে দেয়া হবে।”

শবে কদর কখন হবে?

শবে কদর হবে রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে:
ক) আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ »
তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।”

খ) আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِى بَعْضُ أَهْلِى فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِى الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ
স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল ক্বদ্‌র দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রামাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর।”
 কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, দু ব্যক্তির বিবাদের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ভুলে গেছেন।


গ) শবে কদর কি শুধু রামাযানের সাতাইশ রাতের জন্য নির্দিষ্ট?
আমাদের দেশে সাধারণত: মানুষ শুধু রামাযানের সাতাইশ তারিখে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করে এবং ধারণা করে এ রাতেই শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ ধারণা, সুন্নতের সাথে সঙ্গতীপূর্ণ নয়। কারণ, আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান কর।”


হযরত আবু সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার আমি হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, আমরা চলুন খেজুর বাগানে গিয়ে হযরত নবী পাক (সাঃ) এর হাদীস আলোচনা করি। অত’পর তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম আপনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হতে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে যা শুনেছেন সে সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন। তখন তিনি বললেন একবার রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রমযানের প্রথম দশ দিনের এতেকাফ করলেন আমরাও তার সাথে এতেকাফ করলাম। হযরত জিব্রাঈল (আ:) উপস্হিত হয়ে বললেন, আপনি যে নেয়ামতের উদ্দেশ্যে এতেকাফ করছেন তা আরো সম্মুখে তাই হযরত রাসূল পাক (সাঃ) রমজানের মধ্যবর্তী দশদিনও এতেকাফ করলেন। আমরাও তার সাথে এতেকাফ করলাম। এবারও হযরত জিব্রাঈল (আ:) রাসূল পাক(সাঃ)এর দরবারে উপস্হিত হয়ে বললেন আপনি যে নেয়ামতের জন্য এতেকাফ করছেন তা আরো সম্মুখে । তাই হুযুর পাক (সাঃ) রমজানের বিশ তারিখ সকাল বেলায আমাদেরকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা আমার সাথে এতেকাফে ছিলে তারা আরো কিছু দিন আমার সাথে এতেকাফ রত অবস্হায় থাকবে। কারণ লাইলাতুল ক্বদর রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিসমুহের মধ্যে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে তা নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি। স্বপ্নের কথা আমার এতটুকু মনে আছে, আমি যেন লাইলাতুল ক্বদরের সকাল বেলায় কাদার উপর সেজদা করছি। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, ঐ দিনটি আকাশ খুব পরিস্কার ছিল।কোন প্রকারের বৃষ্টি বাদলের চিহ দেখা যাচ্ছিল না কিন্তু হঠাত আকাশে মেঘ দেখা গেল এবং রমজানের একুশ তারিখ সারারাত বৃষ্টিপাত হল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর মসজিদে খেজুর পাতার চাল ছিল। তার সালাতের স্হানে পানি পড়ে ভিজে গেল। তিনি ফযরের সালাত আদায় করলেন এবং আমরা প্রত্যক্ষ ভাবে দেখলাম তার কপালে ও নাকের উপর স্পষ্ট কাদা লেগে রয়েছে। যাতে হযরত নবী পাক (সাঃ) এর স্বপ্নের সত্যতা প্রমাণিত হল।


ঘ) তবে শেষ সাত দিনের বেজড় রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি:

যেমন, নিম্নোক্ত হাদীসটি:

 ابْنِ عُمَرَ – رضى الله عنهما – أَنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ – صلى الله عليه وسلم – أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْمَنَامِ فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – « أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِى السَّبْعِ الأَوَاخِرِ »

ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবী রামা যানের শেষ সাত রাত্রিতে স্বপ্ন মারফত শবে কদর হতে দেখেছেন।  সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রিতে। অত:এব কেউ চাইলে শেষ সাত রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে পারে।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) এ মর্মে আরও হাদীস রয়েছে।

কোন কোন সালাফে-সালেহীন সাতাইশ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবীগণের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রা:), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কাব (রা:) এর মতামত থেকে এটাই বুঝা যায়।

কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এভাবে নির্দিষ্টকরে লাইলাতুল কদর হওয়ার কোন হাদীস নাই। তাই উপরোক্ত সাহবীদের কথার উপর ভিত্তি করে বড় জোর সাতাইশে রাতে শবে কদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সঠিক কথা হল, শবে কদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।




ঙ) শবে কদরের বিশেষ দুয়া:

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বল:

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى
হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অত:এব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিযী, অনুচ্ছেদ, কোন দুয়াটি শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান, সহীহ)।


Thursday, 2 July 2015

ভালোবাসার সত্যতা (true story)

সপ্না আর নিলয় ছোট বেলা থেকেই একসাথে বড় হয়। সপ্নার বাবা ট্যাক্সি চালায়, আর নিলয়ের বাবা একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। দুই ফ্যামিলির মধ্যে সম্পর্কটা মন্দ নয়।

সপ্না নিলয়কে মনে মনে ভালোবাসতো। কিন্তু কখনো বলতে পারে নি। তারা একত্রে অনার্স পাশ করে। নিলয়ের সরকারী চাকরি হয়। বাসা থেকে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে দেয়। সপ্না বেচারি ঘরে বসে একা কাঁদে। কিছু করার থাকে না তার।

সপ্নার অবস্থা দেখে তার মা সপ্নাকে চেপে ধরে। জিজ্ঞেস করে সমস্যা কি। কান্নাবিজরিত গলায় সপ্না জানায় তার লুকানো প্রেমের কথা। তার একপেশে ভালোবাসার কথা।

সপ্নার পরিবারে দুঃখ নেমে আসে। সপ্নার বাবা জানতে পেরে মেয়েকে জলদি বিয়ে দেয়ার বেবস্থা করতে চান। কিন্তু সপ্নার এক কথা, তার মনের কোঠায় গভীরে সে নিলয়কেই বসিয়েছে। এখন কোনও অবস্থাতেই তার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়। সে এমনকি এই বলে হুমকি দেয় যে বাড়াবাড়ি করলে সে আত্মহত্যা করবে। সপ্নার পরিবারের সবাই ভয় পেয়ে যায়। সাথে সাথে কষ্টও পায়। কিন্তু কিছু করার থাকে না। একমাত্র মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া।

বছর পাঁচেক পরের ঘটনা। সপ্না এখন ঢাকাতে একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষিকা। গ্রামে ইধানিং যায় না সে। বাবা মার সাথে ফোনে কথা হয়। এক পুজার ছুটিতে ৫ দিনের জন্য গ্রামে গেলো সে। সে কি তখনো জ্যান্ত এইবারের গ্রামে ফেরা তার জীবনটা আমূল পাল্টে দিবে?

সপ্না বাসায় ফিরে দেখে বাসার সবার মাঝেই একটা কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। সপ্না মাকে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? সপ্নার মা প্রথমে সপ্নাকে কিছুই বলে না। মেয়ের চাপাচাপিতে তিনি সব খুলে বলেন।

নিলয় গ্রামে এসেছে। তার একটা ফুটফুটে বাবু হয়েছে। বাবুটার বয়স মাত্র ২ বছর। বাবুটাকে জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা যায়। নিলয় গ্রামে এসে সপ্নার মা বাবার সাথে দেখা করতে আসে। ছেলেটার মনে এক অদ্ভুত ক্ষোভ দেখতে পান তারা। এক চাপা কষ্ট।

সপ্না ঘটনা শুনে থ হয়ে যায়। জীবনটা কোনও সিনেমা নয় যে সে নিলয়ের বাচ্চাকে বড় করবে। তাকে নিজের মেয়ের মতো করে পালবে। কিন্তু সপ্নার খুব ইচ্ছে করে। আরও একবার সপ্না নিজের কাছে হেরে যায়। মুখ ফুটে বলতে পারে না তার গোপন ইচ্ছের কথা।

পুজার ছুটি শেষ। আজ বিকেলে সপ্না ঢাকায় ফিরে যাবে। ব্যাগ গুছুচ্ছে এসময় সপ্নার মা দৌড়ে এসে খবর দিলেন নিলয় এসেছে।

সপ্না চমকে যায়। সে চাচ্ছিল যেনও নিলয়ের সাথে তার দেখা না হয়। কি লাভ কষ্টের বুঝা বাড়িয়ে?


মায়ের কথায় অবশেষে নিলয়ের সাথে দেখা হয় তার। দুজনেই চুপচাপ। হটাত নিলয় বলে উঠে, “ঢাকায় থাকো শুনলাম? আমিও ঢাকায় থাকি। পরিবাগে। তুমি?”

“ধানমণ্ডিতে। আমরা ২জন ফ্রেন্ড একত্রে থাকি। ও আমার সাথে একই স্কুলে পড়ায়। আমাদের পাশের গ্রামেরই মেয়ে।”

আরও কিছু কথা বলে তারা একে অপরকে বিদায় জানায়। “ভালো থেকো” বলে ঘুরে নিজের রুমের দিকে হাঁটতে থাকে সপ্না। অজানা কষ্টে বুকটা ধুমরে মুচড়ে যাচ্ছে। নিজের মনের উপর অসম্ভব জোর খাটিয়ে ফিরে চলে সে রুমের পথে।
ঘাড় ঘুরিয়ে শেষবারের মতো ফিরে তাকায় সে। দেখল নিলর দাঁড়িয়ে আছে তার কুলে একটা ফুটফুটে বাচ্চা নিয়ে। নিলয়ের চোখটা ভেজা। দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে অশ্রুকণাগুলো। কেন যেনও বাচ্চাটাকে দেখার পর নিজেকে আটকে রাখতে পারে না সপ্না।

নিলয় এবং সপ্নার বিয়ে হয় তাদের উভয় পরিবারের অনুমতি নিয়ে। ঢাকার পরিবাগেই এখন আছি আমরা। আমিই সেই মেয়ে। আর আমার বাবা মা আমার নাম কি রেখেছেন জানেন? “আলো”। বাবা-মার কাছ থেকে পুরো ঘটনাটি শুনি আমি তাদের ১৪তম বিবাহবার্ষিকীতে। এরপরেই লিখে ফেলি। আর আজ জানিয়ে দিলাম পৃথিবীকে।
By: আলো
 

Wednesday, 1 July 2015

১৫-৩০ মিনিটে পোস্ট করুন, আয় করুন!!!!!

**** মোবাইল রিচার্জ পান ১০/= করে যত খুশি ততবার!!
বিভিন্ন জায়গায় তো কত স্ট্যাটাস , কত গল্প পোস্ট করেন। কিন্তু আপনাকে কেউ কোনো টাকা দেয়? তাহলে কেন এত সময় নষ্ট? এবার "আমরা লেখক" ব্লগে
গল্প/কবিতা/ছড়া/ নাটক/ ভ্রমন কাহিনি/ সত্য কাহিনি/ প্রবন্ধ/ ছোট গল্প/ কৌতুক/ সমসাময়িক/ টিপস ও ট্রিক্স লিখে ফ্রী মোবাইল রিচার্জ করুন।
লেখা কিভাবে দিবেন এবং কিভাবে টাকা রিচার্জ পাবেন তা জেনে নিনঃ
Rule 1 : আপনার একটি Gmail account থাকা লাগবে। না থাকলে mail.google.com এ গিয়ে একটি ফ্রী E-mail account খুলে নিন। (এটি
আপনি Facebook এও ব্যবহার করতে পারেন)
Rule 2 : এবার আপনি ফেসবুক এর নিচের account এ যান। এই "আমরা লেখক" প্রোফাইলটি তে একটি message দিন আপনার Gmail টি উল্লেখ করে।
এই ID তে মেসেজ দিন--> https://www.facebook.com/toufik.rahaman.393
Rule 3 : ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আপনার Gmail এ একটি mail যাবে, যাতে লেখা থাকবে-' আপনাকে "আমরা লেখক" ব্লগে লেখার জন্য আমন্ত্রন জানানো হচ্ছে।'
আপনি mail টি পেলে mail এর accept বাটনে click করবেন। এটা সম্পূর্ণ facebook এর Friend request accept করার মত।
আপনাকে আমরা mail এর মাধ্যমে request জানাবো, আপনি শুধু accept করবেন। যদি mail টি বাংলায় যায় ,তাহলে accept এর জায়গায়
তার বাংলা অর্থ থাকতে পারে যা আপনি দেখলেই বুঝে যাবেন।
Rule 4 : request accept করা হলে আপনি " আমরা লেখক" ব্লগের একজন লেখক হিসেবে গণ্য হবেন। এখন আপনি নতুন ট্যাব খুলে
www.amralekhok.blogspot.com সাইট টি তে যান। এটাই আপনার সেই " আমরা লেখক" ব্লগ। উপরে ডান দিকে কোনায় দেখুন sign in
লেখা আছে। ওটায় ক্লিক করে sign in করুন। এবার দেখুন আপনার ব্লগসমূহ দেখা যাবে। "আমরা লেখক" লেখাটির উপরে ক্লিক করুন। এবার বাম
দিকের option গুলো থেকে "নতুন পোস্ট" এ ক্লিক করুন। এবার পোস্ট শিরোনাম দিন ও নিচে সাদা পেজ এ আপনার লেখা লিখুন। লেখা শেষ এ
অবশ্যই লেখকের নাম দিবেন। ফেসবুক থাকলে সেটাও দিবেন।
Rule 5 : এবার এভাবে নতুন পোস্ট ১০ টি দিয়ে আবার www.amralekhok.blogspot.com এ যান। ডান দিকের কলাম এ সার্চ বক্স এর নিচে যে youtube এর বাটন আছে , সেখানে "ইউটিউব" লেখা টায় ক্লিক করুন । নিচের মত button থাকবে। এখানে ক্লিক করতেও হবে!



এতে আপনি youtube এ  G Fahim চ্যানেল এর সদস্য হলেন। এবার এবারও https://www.facebook.com/toufik.rahaman.393 আইডি তে গিয়ে DONE লিখে message দিন।
Rule 6 : ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আপনার gmail এ একটি mail যাবে যাতে লেখা থাকবে আপনার যে নম্বর এ রিচার্জ করতে চান সেই নম্বরটি দেয়ার জন্য। আর
যদি আপনার কোনো পোস্ট এ "আমরা লেখক" ব্লগের নিয়ম বহির্ভূত কিছু লেখা থাকে সেটি মুছে দেয়া হবে এবং আপনার সেই পরিমান টাকা কম
হবে। আপনি রিচার্জ পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০/= জমাতে হবে।
** প্রতি পোস্ট এ ১ টাকা।
** আর যদি আপনার কোনো পোস্ট এ ৩০+ জন লোক দেখে তাহলে ১ টাকা বোনাস পাবেন।
** যদি আপনার পোস্ট ৯+ জন Google+ এ শেয়ার করে তাহলে আরো ১ টাকা বোনাস!
**যদি আপনার কোনো পোস্ট এ ১০+ জন Comment করে তাহলে আরো ১ টাকা বোনাস!
**আর যদি আপনার কোনো পোস্ট ২০+ Facebook এ শেয়ার করে তাহলে আরো ১ টাকা বোনাস!
অর্থাৎ, প্রতি পোস্ট থেকে সর্বচ্চো ৫/= করে পাওয়া যাবে।
Rule 7 : লেখার নিয়মগুলো মাথায় রাখতে হবে!
১। আপনার লেখার টাইটেল দিতে হবে।
২। কোনো ধর্মবিরোধী লেখা যাবে না।
৩। বাংলা ফন্ট এ লেখলে ভালো হয়।
৪। কোনো রাজনৈতিক দল কে উদ্দেশ্য করে লেখা যাবে না।
৫। কাউকে হুমকি দেয়া যাবে না ।
৬। আপনার সত্য ঘটনা লিখতে পারেন, এক্ষেত্রে আপনি আসল নাম ব্যবহার করছেন কিনা তা বলতে হবে।
৭। লেখার মধ্যে অকথ্য গালাগালি করা যাবে না।
৮। কোনো ছবি ইচ্ছে হলে লেখার সাথে দিতে পারেন।
৯। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না। তবে কাল্পনিক হলে সমস্যা নেই।
১০। রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো লেখা গ্রহণযোগ্য নয়।
১১। অন্যের লেখা কপি করে দেয়া যাবে । তবে অবশ্যই সত্যিকার লেখকের নাম দিতে হবে। এবিষয়ে কোনো ঝামেলা হলে পোস্ট দানকারী ই
দায়ি থাকবে। কর্তৃপক্ষ দায়ভার নিবে না।
Rule 8 : *** ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছুটি, পহেলা বৈশাখের ছুটি ও ঘোষনা দিলে টাকা দেয়া বন্ধ থাকবে। তবে আপনার ই-মেইল এ টাকার পরিমান বলে দেয়া হবে।
ছুটি শেষ এ টাকা দেয়া হবে।
*** আপনার টাকার পরিমান ১০/= এর বেশি হলেও ১০/= ই দেয়া হবে। বাকি টাকা পরবর্তী রচার্জ এ দেয়া হবে। যদি ২০ টাকার বেশী হয় তাহলে
২০/= ই দেয়া হবে।
*** সরকারি নিয়মানুযায়ী সকল ক্ষেত্রে ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য। ভ্যাট নিয়ম সরকার দ্বারা পরিবর্তন হলে তা পরিবর্তন যোগ্য।
### আরো কিছু জানার থাকলে https://www.facebook.com/toufik.rahaman.393 আইডি তে মেসেজ দিন। ###

Ad your website! Only 20tk/month!

Ad your website! Only 20tk/month!
Only 20tk/month. Call: +8801986761741

please comment about the blog

Please subcribe us on Youtube! Just click on youtube below :

Ad your website!! only 20tk/month!!

Ad your website!! only 20tk/month!!
only 20tk/month. call +8801986761741

Go to আমরা লেখক on Facebook

Go to our our other pages

Moja মজা -G_Fahim- | Promote Your Page Too


Android Tips and Tricks -G_Fahim- | Promote Your Page Too

Ad your page here! Only 20tk/month!!

Ad your page here! Only 20tk/month!!
Only 20tk/month!! Call +8801986761741